T 129  বা  TAI 129 হচ্ছে টার্কিশ (Turkish) এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রি ও ইতালির আগোস্টা ওয়েস্টল্যান্ডের তৈরি ২ ইঞ্জিন, ৫ পাখা ও দুই সিট বিশিষ্ট একটি এডভান্সড মাল্টিরোল অল ওয়েদার এটাক হেলিকপ্টার।

এই হেলিকপ্টারটি ইতালির আগোস্টা ওয়েস্টল্যান্ডের A 129 উপর ভিত্তি করে বানানো হয়।

হেলিকপ্টারটি কে এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটি যেকোনো পরিবেশে যেকোন আবহাওয়া মানিয়ে নিয়ে দূর থেকেই শত্রুর এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ করতে পারে।

আর তাই এটি আর দশটি হেলিকপ্টারের চেয়ে একটু আলাদা।

হেলিকপ্টারটি প্রতি ঘন্টায় ২৭৮ কি.মি. বেগে ছুটতে পারে এবং এর ক্রুজ স্পীড ২৬৯ কিঃমিঃ। খালি অবস্থায় এর ওজন ২৩৫০ এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ কেজি ওজন নিয়ে ৫৬১ কি.মি. ও সর্বোচ্চ ১০০০ কি.মি. দূরত্বে যেতে সক্ষম।

প্রতি মিনিটে ২৭৫০ ফুট ক্লাইম্ব রেটে এটি সর্বোচ্চ ২০০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে।

গান হিসেবে এতে রয়েছে একটি তিন ব্যারেলের 1× 20 mm (0.787 in) গ্যাটলিং ক্যানন, যেটি মিনিটে ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে সক্ষম।

রয়েছে ৪ টি হার্ডপয়েন্ট, যেখানে ২০ টা এটিজিএম, ১২টা রকেটসান সিরিট, ৮টা হেলফায়ার ও এন্টি এয়ারক্রাফট হিসেবে ২টা সাইডউইন্ডার ক্যারি করতে পারে।

আরো আছে ৭৬ টি আনগাইডেড রকেট।

এই হেলিকপ্টারটি সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীতে সার্ভিসে আছে। এর প্রতি ইউনিটের মূল্য ২৩ মিলিয়ন ডলার। এই পর্যন্ত সবমিলিয়ে মোট ১৫ টি বানানো হয়েছে।

বিভিন্ন তথ্যমতে, মালেশিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিন কোরিয়া, বাহরাইন, জর্ডান, পোল্যান্ড, আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন সহ আরো কয়েকটি দেশ এই হেলিকপ্টারটির প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে।

আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য ও নিঃসন্দেহে এটি ভালো একটি চয়েস।

উল্লেখ্য, তুরস্ক এই হেলিকপ্টারটি বাংলাদেশকে ও অফার করেছিলো এবং গতবছর ও তা বাংলাদেশের চয়েস লিস্টে ছিলো। কিন্তু জামায়েত ইস্যুতে তুর্কির সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় সরকার এটি প্রত্যাখ্যান করে।

 

কিছু ছবিঃ

T 129
T 129 Attack Helicopter
T 129
T 129 Roketsan Cirit
T 129
T 129 Roketsan Cirit frame
T 129
T 129 front view
Advertisements